এই লেখাটি ইংরেজিমালয়লামেও পড়তে পারেন।

জাতীয় ক্লাব মরশুমের প্রথম টুর্নামেন্ট ডুরান্ড কাপ এ বারও জিতে নিল নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি
শনিবার ফাইনালে কলকাতার নবাগত দলডায়মন্ড হারবার এফসিকে ৬-১-এ হারিয়ে এই খেতাব জয় করে তারা। কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এক ইতিহাস গড়ল হাইল্যান্ডাররা১৯৯১ সালের পর এই প্রথম কোনও দল টানা দ্বিতীয়বার ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন হল। এই জয়ের ফলে স্প্যানিশ কোচ হুয়ান পেদ্রো বেনালির অধীনে থাকা দলের গৌরবও আরও বাড়ল।

যদিও নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি আবারও ডুরান্ড কাপে নিজেদের প্রভাব, প্রতিপত্তি বজায় রাখতে পেরেছে, তবে অন্যান্য কয়েকটি দলের কয়েকজন ফুটবলারের পারফরম্যান্সও নজর কেড়েছে এ বারের ডুরান্ড কাপে, যা এই টুর্নামেন্টের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে তোলে।

ফিরে তাকানো যাক ডুরান্ড কাপ ২০২৫-এর সে রকমই কয়েকজন সেরা পারফর্মারের দিকে।

আলাদিন আজারেই (নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি)

ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) ২০২৪-২৫ মরশুমের সেরা ফুটবলার আলাদিন আজারেই এ বারের ডুরান্ড কাপেও আগের মতোই দাপুটে পারফরম্যান্স দেখানআটটি গোল এবং চারটি অ্যাসিস্ট করে মরক্কোর এই তারকা ফের একবার সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন হাইল্যান্ডারদের, এনে দেন টানা দ্বিতীয়বার ডুরান্ড জয়ের গৌরব

কোয়ার্টার ফাইনালে বোড়োল্যান্ড এফসির বিপক্ষে দুটি গোল করেন আলাদিনতার আগে গ্রুপ পর্বে পাঁচটি গোল করেছিলেন, যার মধ্যে আর্মড ফোর্সের বিপক্ষে একটি হ্যাটট্রিকও ছিল। ফাইনালেও গোল করেন তিনি, সঙ্গে তিনটি অ্যাসিস্টও করেন

পুরো টুর্নামেন্টে তিনি চারবার ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন—যা অন্য যে কোনও ফুটবলারের চেয়ে বেশি। তাই সেরা গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুটের পাশাপাশি সেরা খেলোয়াড়ের জন্য গোল্ডেন বলও ছিল তাঁর প্রাপ্য মরক্কোর তারকা তাঁর স্বদেশীয় নোয়া সাদাউইয়ের পথ অনুসরণ করছেন, যিনি ২০২৪-এ গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন

লিস্টন কোলাসো (মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট)

যদিও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল এফসির কাছে কলকাতা ডার্বিতে হেরে এ বারের ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেয় গতবারের ফাইনালিস্ট মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট, তবে তাদের তারকা উইঙ্গার লিস্টন কোলাসো এই টুর্নামেন্টকে স্মরণীয় করে রাখেন।

এই আসরে তিনি মোট পাঁচটি গোল করেন। সবুজ-মেরুন বাহিনীর তিনটি গ্রুপ ম্যাচেই গোল করেন কোলাসো—যার মধ্যে মহমেডান এসসি ও বিএসএফ-এর বিপক্ষে জোড়া গোল ছিল। এছাড়া তিনি পেনাল্টি থেকে গোল করেন ডায়মন্ড হারবারের বিরুদ্ধে, যেখানে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ৫-১ ব্যবধানে জয় পায়। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে পৌঁছনো দলকে বিপর্যস্ত করে তোলেন তিনি প্রায় একাই।

কোলাসো এই টুর্নামেন্টে তিনবার ম্যাচের সেরা হয়েছেন। কোলাসোর এই ফর্মে ফেরা নিঃসন্দেহে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়, কারণ তাদের উইঙ্গার যখন সেরা খেলাটা খেলেন, তখন দলকেও একেবারে অন্য চেহারায় দেখা যায়।

আনোয়ার আলি (ইস্টবেঙ্গল এফসি)

ইস্ট বেঙ্গল এফসি -র ডুরান্ড অভিযানের পরিণতি সেমিফাইনালে হতাশাজনক ভাবে শেষ হলেও সাফল্যের রাস্তায় তারা উপভোগ করেছে অনেক ইতিবাচক মুহূর্ত। তাদের ডুরান্ড কাপ অভিযানের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখ ছিলেন আনোয়ার আলি, যিনি রক্ষণভাগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে লাল-হলুদ ব্রিগেডকে প্রতিপক্ষ হিসেবে শক্তিশালী করে তোলেন।

অস্কার ব্রুজোনের দল টুর্নামেন্টে দুটি ম্যাচে ক্লিন শিট বজায় রাখে এবং পাঁচটি ম্যাচে চারটি গোল হজম করে। এই উন্নত ও ডিফেন্সিভ পারফরম্যান্সে বড় ভূমিকা পালন করেন আনোয়ার। এই তারকা সেন্টার-ব্যাক আক্রমণভাগেও সমান কার্যকর ছিলেন। টুর্নামেন্টে দলের হয়ে দুটি গোলও করেন তিনি।

সাইরুয়াত কিমা (ডায়মন্ড হারবার এফসি)

ডায়মন্ড হারবার এফসি ছিল এবারের টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় চমক। ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত হেরে যায় তারা। তাদের এই অভিযানে অন্যতম সেরা তারকা ছিলেন ডিফেন্ডার সাইরুয়াত কিমা। ২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার মাত্র তিনটি ম্যাচ খেললেও তাঁর প্রভাব ছিল বিশাল। আই-লিগ ২-এর চ্যাম্পিয়নরা রক্ষণে কিমার উপস্থিতিতে তিনটি ম্যাচে মাত্র দুটি গোল খায়, যার মধ্যে জামশেদপুর এফসি-র বিরুদ্ধে কোয়ার্টার-ফাইনালে জয় এবং ইস্টবেঙ্গল এফসির বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে সাফল্যও অবশ্যই রয়েছে।

ডিফেন্ডার হয়েও প্রতিপক্ষের বক্সে ত্রাস হয়ে ওঠেন তিনিপুরো টুর্নামেন্টে তিনি তিনটি গোল করেছেন, যার মধ্যে জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধেশেষ আটের ম্যাচে দুর্দান্ত জোড়া গোল ছিল। এই দুই গোলেই জয় পায় তারা। টুর্নামেন্টে দু’বার ম্যাচসেরা নির্বাচিত হয়েছেন কিমা।

লুকা মাজেন ( ডায়মন্ড হারবার এফসি)

স্লোভেনিয়ার এই ফরোয়ার্ড সদ্যসমাপ্ত ডুরান্ড কাপে ডায়মন্ড হারবারের ফাইনালমুখী অভিযানের অন্যতম সেরা অনুপ্রেরণা ছিলেন। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি চারটি গোল করেছেন—প্রতি গ্রুপ ম্যাচেই গোল অবদান রেখেছেন তিনি এবং ফাইনালেও একটি গোল করেছেন, যদিও তা শেষ পর্যন্ত হার দিয়ে শেষ হয়।

পূর্বতন পাঞ্জাব এফসি স্ট্রাইকার নকআউট পর্বে মাত্র একবার গোল পেলেও তাঁর উপস্থিতি ও নেতৃত্ব ছিল দলের বড় ভরসা। তাঁর কারণেই দল আইএসএলের দুই দল জামশেদপুর এফসি ও ইস্টবেঙ্গল এফসির মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে এগোতে পারে।