তৃতীয় হিরো আইএসএল খেতাব জিতে ইতিহাস গড়ার পরে এটিকে তারকারা কে, কী বললেন?

গত দু’বছর সেরা চারেও উঠতে পারেনি তারা। তাই এ বারে ঘুরে দাঁড়ানোর সংকল্প নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন এটিকে এফসি-র ফুটবলাররা। নিজেদের ও সমর্থকদের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে পেরে যতটা না খুশি, তার চেয়ে বেশি তৃপ্ত এটিকে তারকারা। শনিবার গোয়ার ফতোরদায় জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে হিরো আইএসএল ২০১৯-২০-র ফাইনালে দু’বারের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাইন এফসি-কে হারিয়ে তৃতীয় হিরো আইএসএল খেতাব জিতে নজির গড়া কলকাতার দলের তারকারা indiansuperleague.com-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কে কী বললেন, জেনে নিন।

এই সাফল্য প্রাপ্য ছিল: রয় কৃষ্ণা

খুবই স্বস্তি লাগছে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই তো আমরা এখানে খেলতে এসেছিলাম। দলের প্রত্যেকের জন্য আমি গর্বিত। লিগের প্রথম দিন থেকে বিশ্বাসটা ছিল যে আমরা পারব, ফাইনালে এসে ট্রফিটা হাতে তুলব। তাই প্রত্যেককে অভিনন্দন। আগুস (গার্সিয়া) ও আনাস (এডাথোডিকা)-কেও ধন্যবাদ। ওরাও আমাদের দলের সদস্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সঙ্গে থাকতে পারেনি আমাদের সঙ্গে। ফাইনালের মাঝখানেই আমার চোটটা হয়ে যায় দুর্ভাগ্যজনক ভাবে। কেউই চায় না, এমন একটা বিশাল ম্যাচে চোট পেয়ে বসে যেতে। তবে অন্যরা যে ভাবে সামলেছে, সে জন্য আমি গর্বিত। এই সাফল্যটা আমাদের প্রাপ্য ছিল। ম্যাচটাতে শেষ পর্যন্ত থাকতে পারলাম না বলে খারাপ লাগছিল। তবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, এটা উপলব্ধি করার পরে আর খারাপ লাগছে না। সারা মরশুমে সতীর্থদের যেটা বলে এসেছি, ফাইনাল শুরুর আগেও সেটাই বলেছি। নিজেদের প্রতি আস্থা রাখো। দুর্ভাগ্যবশত সমর্থকেরা আজ আসতে পারেননি মাঠে। তবে তাদের নিরাপত্তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সারা ভারতে সব সমর্থকদের ভালবাসা ও শুভেচ্ছা আমাদের সঙ্গে ছিল। তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।  

সমর্থকদের জন্যই এই সাফল্য: ডেভিড উইলিয়ামস

চ্যাম্পিয়ন হয়ে দারুণ লাগছে। তবে কিছুটা অদ্ভুতও লাগছে। এ রকম ফাঁকা গ্যালারির সামনে এমন একটা জমজমাট লিগের ফাইনাল জিতলাম। কলকাতায় সমর্থকদের জন্য আনন্দ হচ্ছে। তাদের জন্যও আনন্দ হচ্ছে। সমর্থকদের জন্যই এটা সম্ভব হল। সারা মরশুম ওরা আমাদের জন্য গলা ফাটিয়েছে। এতদিনে ওদের সেই পরিশ্রমের প্রতিদান দিতে পারলাম। আমরা ফাইনালে নিজেদের উজাড় করে দিতে পেরেছি। দুর্দান্ত ডিফেন্ড করেছি। তিনটে গোলও করেছি। খুবই কষ্টার্জিত সাফল্য। তবে খারাপ লাগছে আমার স্ত্রী-ছেলেদের জন্য। এই মুহূর্তে ওরা কাছে থাকলে ভাল হত। কিন্তু ওরা আসতে পারল না (করোনা আতঙ্কের কারণে)। আশা করি, পরের বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সময় ওরা কাছে থাকবে। দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে ভাল লাগছে। ওরা খুব ভাল ও বিপজ্জনক দল। শুরুটা দারুণ করেছিল। তবে আমরা ঘুরে দাঁড়িয়ে ওদের চাপে ফেলতে পারায় সাফল্য এল। রয় পুরো ম্যাচটা খেলতে পারলে আরও ভাল হত। প্রবীর গত সপ্তাহের মতোই দারুণ খেলেছে। তবে অরিন্দম একেবারে যোগ্য হিসেবেই ম্যাচের হিরোর খেতাবটা পেয়েছে। ও লিগের সেরা দুই গোলকিপারের একজন। ওর আরও বেশি কিছু প্রাপ্য ছিল।

গোলটাই আমার সেরা মুহূর্ত: এডু গার্সিয়া

এটা আমাদের সবার জন্যই একটা বিশেষ মুহূর্ত। সবাই খুব খুশি। এখন এই সাফল্য আমরা চুটিয়ে উপভোগ করব। আমরা জানতাম, চেন্নাইন দুর্দান্ত একটা দল। ম্যাচটা যে আমাদের পক্ষে বেশ কঠিন হবে, তাও জানতাম। আমাদের পরিকল্পনা ছিল ওদের সেরা খেলোয়াড়দের আটকে রাখার চেষ্টা করব। যদিও কাজটা বেশ কঠিন ছিল, তবে সেটা করতে পেরেছি এবং তিনটে গোলও করেছি। এটাই আমাদের কৃতিত্ব। দলের জন্য গোল করাটা এমনিতেই আনন্দের। তার ওপর সেটা যদি হয় দলকে ট্রফি এনে দেওয়ার জন্য, তা হলে সেটা সেরা মুহূর্ত হয়ে ওঠে। গোলটা তাই আমার কাছে অন্যতম সেরা।

সমর্থকদের, পরিবারকে উপহার: প্রবীর দাস

সমর্থকদের অসংখ্য ধন্যবাদ। গত বছর সারা মরশুম যখন আমি চোটের জন্য মাঠের বাইরে ছিলাম, তখন তাঁরা আমাকে প্রচুর সাহস জুগিয়েছেন, তুমি অবশ্যই মাঠে ফিরতে পারবে, এই বলে। তাদের জন্যই ফের মোটিভেশন পেয়েছি ভাল খেলার জন্য। আমার পরিবার, মায়ের কথাও বলতেই হবে। তাদের কাছ থেকেও প্রচুর সাহস ও উৎসাহ পেয়েছি। তাই তাঁদের সবাইকে এই উপহারটা দিতে পেরে আমি খুব খুশি। খুব ভাল লাগছে আমার।

ট্রফি না জিতলে পরিশ্রমটাই বিফলে যেত: প্রণয় হালদার

এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। কারণ, এটা আমার প্রথম আইএসএল জয়। দারুণ খুশি। এই সাফল্যটা আমাদের প্রাপ্য ছিল। মরশুমের আগে থেকে শুরু করে এত পরিশ্রম করেছি আমরা যে, তার পরেও চ্যাম্পিয়ন না হতে পারলে তার কোনও মূল্য থাকত না। শেষ পর্যন্ত যে জিতেছি, সে জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। সমর্থকদেরও ধন্যবাদ, আমাদের পাশে থাকার জন্য।

ক্লাবের প্রত্যেকের পরিশ্রমের ফসল: জয়েশ রানে

অসাধারণ অনুভূতি। একজন ফুটবলারের কাছে ট্রফি জেতার মুহূর্তের চেয়ে আর কোনও মুহূর্তই দামী নয়। তাই খুবই খুশি আমি। আমরা যে আইএসএলের ট্রফিটা জিতেছি, এটা আমাদের প্রচুর পরিশ্রমের ফল। শুধু আমরা খেলোয়াড়রা যে পরিশ্রম করেছি, তা নয়। দলের সাপোর্ট স্টাফের প্রত্যেকেই প্রচণ্ড পরিশ্রম করেছে। সবার মিলিত পরিশ্রমের ফসল এই ট্রফি। সমর্থকেরাও প্রচুর সাহায্য করেছেন আমাদের। বিশেষ করে গত ম্যাচে তো গ্যালারি প্রায় ভর্তিই হয়ে গিয়েছিল। গত দুই মরশুমে আমরা ভাল কিছু করতে না পারার পরেও সমর্থকদের এই পাশে এসে দাঁড়ানোটা খুব প্রয়োজন ছিল। ফাইনালের আগে কোচ আমাদের বলে দিয়েছিলেন, এটা ফাইনাল, ফাইনালের মতোই খেলতে হবে। গ্যালারি ফাঁকা থাক বা বিপক্ষ যতই আমাদের চাপে ফেলার চেষ্টা করুক না কেন, আমাদের পুরো ৯০ মিনিট ফোকাস বজায় রাখতেই হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলে সাফল্য: জন জনসন

আমাদের দলের ছেলেরা এত ভাল খেলেছে যে, এই জয়টা আমাদেরই প্রাপ্য ছিল। আমাদের পরিকল্পনা ছিল ম্যাচে সারাক্ষণ সঙ্ঘবদ্ধ থাকব। আমরা জানতাম, আমাদের আক্রমণ বিভাগ দুর্দান্ত। ওরা গোল করে দেবেই। গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল ওদের স্ট্রাইকারদের আটকানো। কারণ, ওরাও যথেষ্ট ভাল ও বিপজ্জনক। দ্বিতীয়ার্ধেও প্রায় একইরকমের পরিকল্পনা ছিল। ওরা যখন আক্রমণে উঠছিল, তখন সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমাদের কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠাই ছিল প্রধান কাজ। সেই কাজে আমরা সফল হয়েছি। পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পেরেছি বলেই সাফল্য এসেছে। আইএসএল এখন অন্যতম সেরা লিগ। প্রতি বছর আরও উন্নত হচ্ছে। এ রকম একটা লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা যথেষ্ট কৃতিত্বের।

Your Comments

Your Comments