দলের রিজার্ভ বেঞ্চকে পরখ করে দেখার সময় এসে গেছে: হাবাস

শেষ মুহূর্তে রয় কৃষ্ণার দেওয়া গোলে দলের সম্মান বাঁচার পরে এটিকে এফসি-র স্প্যানিশ কোচ আন্তোনিও লোপেজ বলছেন, এতে তিনি খুশি । তবে এতটা শরীরী ফুটবল পছন্দ নয় তাঁর।

শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে একটা সময় মনে হচ্ছিল দুই দলের ফুটবলাররা ফুটবল ভুলে নিজেদের মধ্যে ঝগড়ায় বেশি ব্যস্ত। একে অপরের দিকে তেড়ে যাওয়ার দৃশ্য প্রায়ই দেখা যাচ্ছিল এদিন। সেই প্রসঙ্গে হাবাস ম্যাচের পরে সাংবাদিকদের বলেন, খুব হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচ হয়েছে আজ। ফুটবল স্কিলের চেয়ে ধাক্কাধাক্কিই বেশি হয়েছে মাঠে। শুধু ফাউলই হয়ে যাচ্ছিল। সব মিলিয়ে ব্যাপারটা খুব একটা ভাল লাগেনি আমার। তবে রেফারিং নিয়ে তিনি কিছু বলতে চাননি। 

প্রায় হারের মুখ থেকে ফিরে আসার পরে কলকাতার দলের কোচ বলেন, ম্যাচ যখন ড্র হয়েছে, তখন খুশি হওয়ার মতো কিছু নেই। তবে দলের দায়বদ্ধতা দেখে আমি খুশি। শেষ মিনিট পর্যন্ত যে ভাবে লড়েছে আমার দলের ছেলেরা, তার প্রশংসা করতেই হবে। সারা ম্যাচেই লড়াই করেছি আমরা। শেষ মুহূর্তের গোলে ড্র করতে পারাটা খারাপ নয়। যে রকম পারফরম্যান্স দেখিয়েছে দুই দল, সেই অনুযায়ী ফলাফল ঠিকই হয়েছে

এ দিন অগাস্টিন ইনিগেজকে প্রথম থেকে না খেলিয়ে এডু গার্সিয়াকে নামান হাবাস। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেন, অগস্টিনের গত এক সপ্তাহে চার কেজি ওজন কমে গিয়েছে, এতটাই পরিশ্রম করেছে ও।  তাই আজ ওকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। শুরু থেকে নামাইনি

দলের রিজার্ভ বেঞ্চের খেলোয়াড়দেরও এ বার থেকে তিনি পরখ করে দেখবেন বলে জানান এটিকে কোচ। বলেন, আমি দেখতে চাই আমাদের রিজার্ভ বেঞ্চের খেলোয়াড়রা কী অবস্থায় আছে। পুরো ম্যাচ খেলার অবস্থায় ওরা আছে কি না। দলে মাত্র সাতজন বিদেশী খেলোয়াড় আছে। ওদেরও ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলাতে হবে। কারণ, দীর্ঘ লিগ। সবাইকে শেষ পর্যন্ত সুস্থ ও তাজা রাখতে হবে। তাই দলে বদল আনতেই হবে

দল বদলালেও দলের কৌশলে কোনওরকম পরিবর্তন করতে চান না তিনি। বলে দেন, এ রকমই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে আমার দল। আজ আমরা যদি ম্যাচে হেরেও যেতাম, তা হলেও আক্রমণাত্মক ফুটবল ও লড়াই ছাড়তাম না। এটাই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ

মাইকেল সুসাইরাজের নতুন ভূমিকা নিয়ে খুশি হাবাস বলেন, ওকে দিয়ে ফুলব্যাক খেলাচ্ছি। কারণ, আমাদের কোনও বিশেষজ্ঞ লেফট ব্যাক নেই। এ ভাবে সব বিভাগেরই ঘাটতি পূরণ করতে হতে পারে আমাকে। ডিফেন্সে যেমন একজন কম থাকায় সেই ঘাাটতি মেটানোর জন্য আমায় এটা করতেই হত। এ রকম যদি আক্রমণ বিভাগে বা মাঝমাঠেও হয়, তা হলেও তার ব্যবস্থা এ ভাবেই নিতে হবে

অন্য দিকে মুম্বই সিটি এফসি-র কোচ জর্জ কোস্তা বলেন, এখানে আর গত ম্যাচ থেকে আমাদের ৬ পয়েন্ট নিয়ে ফেরার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু তার জায়গায় দুপয়েন্ট পেলাম। তাই আমার খুশি হওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে এটাই ফুটবল। এটাই বাস্তব। তবে আজ যা খেলেছে আমার দল, তাতে আমি খুশি। ম্যাচটা হারা থেকে জেতার জায়গায় নিয়ে চলে গিয়েছিলাম আমরা। তার পরেও জিততে না পারাটা হতাশাজনক। ম্যাচে অতিরিক্ত ঝগড়া ও শরীরী সংঘর্ষ নিয়ে কোস্তা বলেন, ফুটবলে এমন হতেই পারে। দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা বেশি থাকলে, এমনই হয়। আমার আবার এ রকম ফুটবলই পছন্দ। উত্তেজনা না থাকলে আর তাতে মজা কী? তাই এসব একটু আধটু হওয়া ভাল

Your Comments

Your Comments