কাতারের কাছে হেরে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের দৌড় থেকে ছিটকে গেলেও ভারতীয় দলের হেড কোচ ইগর স্টিমাচ তাঁর দলের ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে খুশি। মঙ্গলবার বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডের শেষ ম্যাচে কাতারের কাছে ১-২-এ হেরে তৃতীয় রাউন্ডে ওঠার দৌড় থেকে ছিটকে যায় স্টিমাচের ভারত। 

আর রায়ানের জসিম বিন হামাদ স্টেডিয়ামে এশীয় চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে এই ম্যাচের প্রথমার্ধে লালিয়ানজুয়ালা ছাঙতের গোলে এগিয়ে যায় ভারত। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ইউসুফ আইমেন ও আল রাওয়ির দেওয়া গোলে শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নেয় কাতার, যারা গ্রুপশীর্ষে থেকে তৃতীয় রাউন্ডে ওঠে। 

ম্যাচের প্রথম গোলটি লালিয়ানজুয়ালা ছাঙতের পা থেকে আসে ৩৭ মিনিটের মাথায়, যখন বক্সের মাথা থেকে তাঁকে গোলের পাস বাড়ান ব্র্যান্ডন ফার্নান্ডেজ এবং প্রতিপক্ষের জালে বল জড়াতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি ছাঙতে। উত্তেজনাপূর্ণ প্রথমার্ধের শেষে এই এক গোলেই এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ভারত। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শেষ কুড়ি মিনিটে দুটি গোল করে জয় ছিনিয়ে নেয় দু’বারের এশীয় চ্যাম্পিয়ন কাতার। 

এই ম্যাচে দলের খেলোয়াড়দের লড়াকু মনোভাবের প্রশংসা করে স্টিমাচ সাংবাদিকদের বলেন, “আমার দলের ছেলেরা যা খেলেছে, তা নিয়ে অভিযোগ করার কিছু নেই। ওরা দারুন খেলেছে। ভারতীয় সমর্থকেরা তাদের দল নিয়ে গর্ব করতেই পারে। ম্যাচের বেশিরভাগ সময়েই নিয়ন্ত্রণ করেছি আমরা। কাতারের মতো একটা ভাল দলকে চাপে রাখা মোটেই সোজা কাজ না। আমরা কাতারের চেয়ে অনেক ভাল ভাল সুযোগ পেয়েছি”। 

ছাঙতে গোল করা ছাড়াও মনবীর সিং ও রহিম আলি একাধিক ভাল সুযোগ পান, যেগুলি কাজে লাগাতে পারলে গোল পেতেন তাঁরা। সুযোগ নষ্ট প্রসঙ্গে কোচ বলেন, “আমরা প্রথমার্ধে অন্তত তিন গোল পেতে পারতাম। তা হলে ওখানেই ম্যাচ শেষ হয়ে যেত। কিন্তু ভারতীয় ফুটবলে বক্সের মধ্যে নিখুঁত প্রতিক্রিয়ার অভাব রয়েছে বলেই তা সম্ভব হয়নি”। 

ভারতকে শুরু থেকেই চাপে রাখে কাতার। কিন্তু শুরুর চাপ সামলে পাল্টা আক্রমণে ওঠা শুরু করে ভারত।  তখনই রহিম আলি ও মনবীর সিংরা গোলের ভাল সুযোগ তৈরি করে নেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে কাতার। এক গোলে এগিয়ে থেকেই যাতে তারা ম্যাচ শেষ করতে পারে, সে জন্য ভারত ক্রমশ রক্ষণাত্মক হতে শুরু করে ও ডিফেন্সে লোক বাড়িয়ে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখার চেষ্টা শুরু করে। কিন্তু ৭৩ মিনিট পর্যন্ত তাদের আটকে রাখার পর ইউসুফ আইমেন সমতা এনে ফেলেন ও ৮৫ মিনিটের মাথায় বক্সের মাথা থেকে নেওয়া শটে জালে বল জড়িয়ে দেন আল রাওয়াই। এই গোলের পরে সাত সাত মিনিটের স্টপেজ টাইম-সহ প্রায় ১২ মিনিট পাওয়া সত্ত্বেও আর সমতা ফেরাতে পারেনি ভারত।

ইতিমধ্যেই তৃতীয় রাউন্ডে পৌঁছে যাওয়া কাতারের কোচ টিনটিন মার্কেজ তরুণদের নিয়ে গড়া দল নামিয়েছিলেন ভারতের বিরুদ্ধে। স্টিমাচ দুই দলেরই তরুণ ফুটবলারদের প্রশংসা করে বলেন, “আমরা জয়ের খুব কাছাকাছি ছিলাম। তৃতীয় রাউন্ডের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হল না। আমাদের প্রতি কিছুটা অবিচারও হয়েছে”। 

কাতারকে অভিনন্দন জানিয়ে স্টিমাচ বলেন, “ওদের অভিনন্দন। দুই দলেরই তরুণ ফুটবলাররা আজ প্রমাণ করেছে যে ওদের ফুটবল ভবিষ্যৎ গর্ব করার মতো”। দু’পক্ষই আজ ওপেন ফুটবল খেলেছে এবং দুই দলের খেলোয়াড়রাই ম্যাচটা উপভোগ করেছে। অনেকেই বলতে পারেন, কাতার তাদের রিজার্ভ দল খেলিয়েছে। কিন্তু আমাদের খেলোয়াড়রাও কাতারের খেলোয়াড়দের তুলনায় অনেক বেশি বয়সী নয়”।