সামনেই ২০২৬ বিশ্বকাপ ও ২০২৭ এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ কুয়েত ও কাতারের বিরুদ্ধে। ৬ জুন কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে কুয়েতের বিরুদ্ধে ম্যাচে জিততে পারলে ভারতের সামনে বাছাই পর্বের তৃতীয় রাউন্ডের দরজা খুলে যেতে পারে, যা এর আগে এ দেশের ফুটবলে কখনও হয়নি। যুবভারতীতে এই ম্যাচ আবার হতে চলেছে কিংবদন্তি ফুটবলার সুনীল ছেত্রীর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। 

এই ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ভুবনেশ্বরে জোর কদমে অনুশীলন চলছে ভারতীয় দলের। ইন্ডিয়ান সুপার লিগ ২০২৩-২৪ শেষ হওয়ার পরেই দলের প্রস্তুতি শুরু করে দেন ভারতীয় দলের হেড কোচ ইগর স্টিমাচ। সেই প্রস্তুতি শিবির সম্পুর্ণ হওয়ার আগে বৃহস্পতিবার তিনি কুয়েতের বিরুদ্ধে ম্যাচের জন্য ২৭ জনের চূড়ান্ত দলও ঘোষণা করে দেন। এ বার এই ২৭ জনকে নিয়ে সোমবার থেকে আসল ও শেষ পর্বের প্রস্তুতি শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন স্টিমাচ। 

সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের ওয়েবসাইটে তিনি বলেন, “প্রস্তুতি শিবিরে ছেলেরা ভালই অনুশীলন করছে। এই শিবিরে খেলার বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করছি আমরা। আক্রমণ ও রক্ষণ— দুই দিকই। আমাদের ছেলেরা ফিটনেসে প্রতিদিন ক্রমশ উন্নতি করছে। এ বার আমরা কৌশল নিয়ে কাজ শুরু করব। সোমবার থেকে পজিশনিং, সেট পিস ও ট্রানজিশন নিয়ে কাজ শুরু হবে”। 

এশীয় বাছাই পর্বের গ্রুপ ‘এ’-তে রয়েছে ভারত। এ বারের বাছাই পর্বে ভারতের গ্রুপে তাদের চেয়ে ক্রমতালিকায় ওপরে থাকা একমাত্র দল কাতার। বাকি দু’টি দল ক্রমতালিকায় তাদের চেয়ে নীচে রয়েছে। প্রতি গ্রুপ থেকে দুটি করে দল তৃতীয় রাউন্ডে উঠবে। 

বর্তমানে চার ম্যাচে চার পয়েন্ট পেয়ে দু’নম্বরে রয়েছে ভারত। তিন পয়েন্ট পেয়ে কুয়েত চারে, আফগানিস্তানের পরে। ফলে ভারতের যুবভারতীতে জিততে পারলে তাদের তৃতীয় রাউন্ডে উঠে ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাছাই পর্বে দ্বিতীয় রাউন্ডে মোট ৩৬টি দলকে ৯টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতি গ্রুপে রয়েছে চারটি দল। 

আগামী ২৯ মে পর্যন্ত ভুবনেশ্বরে অনুশীলনের পর ভারতীয় দল নিয়ে কলকাতায় পৌঁছে যাবেন স্টিমাচ। আগে ঠিক ছিল ভারতীয় দল ম্যাচের দু’দিন আগে কলকাতায় পৌঁছবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই কলকাতায় ঢুকে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় দলের কোচ। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “ভুবনেশ্বরে উষ্ণতা ও আর্দ্রতা দুটোই বেশি। তবে আমরা প্রতিটি অনুশীলনই উপভোগ করেছি। এখানে অসাধারণ আতিথেয়তা ও সুযোগ-সুবিধা পেয়েছি আমরা। তবু কলকাতায় যাওয়ার তারিখটা এগোলাম, যাতে ওখানকার আর্দ্রতার সঙ্গে আরও ভাল ভাবে মানিয়ে নিতে পারি আমরা। এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে যাতে নিখুঁত প্রস্তুতি নিতে পারি”। 

এর আগে ৩২ জন ফুটবলার ছিলেন ভারতীয় শিবিরে। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে বাদ দিয়ে চূড়ান্ত ২৭ জনকে বেছে নিয়েছেন স্টিমাচ। পাঁচ ফুটবলারকে বাদ দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রস্তুতি শিবিরে অনেক অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের পর খেলোয়াড়দের শিবিরের বাইরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব কঠিন। কিন্তু কী করব, এটাই আমার কাজ। ওদের সঙ্গে অনেক কথা হয়েছে আমার। কোথায় ওদের আরও উন্নতি করতে হবে, তা ওদের বুঝিয়েছি। ওরা যে জায়গায় খেলে, দলের মধ্যে সে সব জায়গায় কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। তাই ওদের ফেরত পাঠাতে হয়েছে”। 

গতবার ‘ই’ গ্রুপে থাকা ভারত আটটির মধ্যে মাত্র একটি ম্যাচে জিতেছিল ও চারটিতে ড্র করেছিল। তারা ছিল গ্রুপের তিন নম্বরে। ফলে তৃতীয় রাউন্ডে উঠতে পারেনি। এ বার এ পর্যন্ত চারটির মধ্যে একটিতে জয় পেয়েছে তারা ও একটিতে ড্র করেছে। তাদের শেষ দুই ম্যাচ কুয়েত ও কাতারের বিরুদ্ধে। কুয়েতকে তাদের হোম ম্যাচে হারিয়ে এসেছে ভারত। যদিও দেশের মাঠে কাতারের কাছে হেরেছে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র-ও করেছেন সুনীলরা। ফলে এই ম্যাচে কুয়েতকে হারাতে পারলে ও অপর ম্যাচে কাতার যদি আফগানিস্তানকে হারায়, তা হলে ভারতের তৃতীয় রাউন্ডে ওঠার রাস্তা পরিস্কার হয়ে যাবে।   

স্টিমাচের আশা, ৬ জুন যুবভারতীর গ্যালারি ভরে উঠবে এবং তাঁরা সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে সাফল্য উদযাপন করতে পারবেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই ম্যাচ যেহেতু খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এই ম্যাচ জিতে যেহেতু আমাদের সামনে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের তৃতীয় রাউন্ডে উঠে ইতিহাস তৈরি করার সুযোগ আছে এবং যেহেতু এটা দেশের হয়ে সুনীল ছেত্রীর শেষ ম্যাচ, তাই আশা করি সল্ট লেক স্টেডিয়ামের গ্যালারি পরিপূর্ণ থাকবে। আশা করি, আমাদের ছেলেদের জেতাতে ও সুনীলকে বিদায় জানাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমর্থকেরা সেদিন কলকাতায় আসবেন। ম্যাচটা হয়তো খুবই আবেগপূর্ণ হবে এবং আশা করি, শেষ বাঁশি বাজার পরে আমরা একসঙ্গে আমাদের সাফল্য উদযাপন করতে পারব”। তাঁর আশা পূর্ণ হোক, এমনটাই চাইছেন দেশের আপামর ফুটবলপ্রেমী জনতাও।