শেষ ম্যাচেও হার লাল-হলুদের, হায়দরাবাদের কাছে হেরে বিদায় গতবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বইয়ের

শেষ ম্যাচেও জিততে পারল না এসসি ইস্টবেঙ্গল। সুনীল ছেত্রীর দেওয়া একমাত্র গোলে বেঙ্গালুরু এফসি র কাছে হার মানতে হল তাদের। ফলে সারা লিগে মাত্র একটি ম্যাচ জিতে লিগ টেবলের সর্বশেষ স্থানে থেকে অভিযান শেষ করল তারা।

শনিবার তিলক ময়দান স্টেডিয়ামে সুনীল ছেত্রীর ২৪ মিনিটের গোলে এগিয়ে যায় বেঙ্গালুরু এফসি। আরও বড় ব্যবধানে জিততে পারত তারা। তবে সারা ম্যাচে আর গোলের মুখ খুলতে না পারায় এক গোলে জিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের। এই জয়ের ফলে মোট ২৯ পয়েন্ট পেয়ে ছ'নম্বরে থেকে লিগ শেষ করল তারা। 

অন্যদিকে, এ দিন দ্বিতীয় ম্যাচে হায়দরাবাদ এফসি তাদের শেষ ম্যাচে গতবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বই সিটি এফসি-কে ২-১-এ হারিয়ে সেরা চারের লড়াই থেকে ছিটকে দিল। ফলে লিগে তাদের একটি ম্যাচ বাকি থাকতেই কেরালা ব্লাস্টার্স সেমিফাইনালে জায়গা পাকা করে নিল। রবিবার কেরালার দল তাদের শেষ ম্যাচে নামবে এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে। এই ম্যাচে জিতলেও অবশ্য তারা চার নম্বরেই থেকে যাবে।

ফতোরদার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে এই ম্যাচে যেখানে সেমিফাইনালে উঠতে মুম্বইকে জিততেই হত, সেখানে হায়দরাবাদ এফসি ১৪ মিনিটে রোহিত দানুর গোলে এগিয়ে যায়। ৪১ মিনিটের মাথায় ব্যবধান বাড়ান জোয়েল চিয়ানিজ। মুম্বইয়ের ডিফেন্ডার মুর্তাদা ফল ৭৬ মিনিটের মাথায় একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত সমতা আনতে পারেননি।   

এ দিন ম্যাচের শুরুতেই ফ্রি কিক থেকে দুর্দান্ত এক মাপা শট নেন এ মরশুমে লাল হলুদের সেরা তারকা আন্তোনিও পেরোসেভিচ, যা গোলে ঢোকার আগেই বাঁচিয়ে নেন গোলকিপার লারা শর্মা। 

ছেত্রীর গোলের আগে পর্যন্ত দুই দলের মধ্যেই লড়াইটা প্রায় সমানে সমানে হয়। বেঙ্গালুরু অধিনায়ক একটি উড়ে আসা লঙ বল চেস্ট ট্র্যাপ করে সোজা গোলে শট নেন, যা বাঁদিকের  ওপরের কোণ দিয়ে গোল বুকে যায়।

ছেত্রীর গোলের মিনিট পাঁচেক পরেই উদান্ত সিংয়ের গোলমুখী শট বারে লেগে ফিরে আসে। প্রথমার্ধে দুই দলই একাধিক আক্রমণ জানালেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি কোনো পক্ষই। 

এর মধ্যেই পেরোসেভিচের গোড়ালিতে চোট লাগায় জোর ধাক্কা খায় লাল হলুদ শিবির। তাঁর জায়গায় নামেন মার্সেলো রিবেইরো। 

দ্বিতীয়ার্ধে বেঙ্গালুরু এফসি ব্যবধান বাড়ানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে এই অর্ধের মাঝামাঝি সময়ে সেম্বয় হাওকিপ সমতা আনার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। তাঁর শট বারের ওপর দিয়ে উড়ে যায়।

ম্যাচের বয়স এক ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর দুই দলের কোচ একঝাঁক তরুণ তারকা মাঠে নামান। ছেত্রীর আরও একটি গোলমুখী শট লাল হলুদ গোলকিপার শুভম সেন ব্যর্থ করে দেন। এর পরেও সুনীল ছেত্রীর আরও একটি গোলের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন নেপাল থেকে আসা ডিফেন্ডার অনন্ত তামাং ও  শুভম। 

 এসসি ইস্টবেঙ্গল দল: শুভম সেন (গোল), রাজু গায়কোয়াড়, অনন্ত তামাং, ফ্রানিও পর্চে, নাওচা সিং, নাওরেম মহেশ (আদিল খান), সৌরভ দাস,ওয়াহেংবাম লুয়াং (সিদ্ধান্ত শিরোদকর), লালরিনলিয়ানা হনামতে, আন্তোনিও পেরোসেভিচ (মার্সেলো রিবেইরো), শুভ ঘোষ (সেম্বয় হাওকিপ) ।

Your Comments

Your Comments