কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও যে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছেন তাঁর দলের ফুটবলাররা, সে জন্য যতটা না খুশি মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কোচ হুয়ান ফেরান্দো, তার চেয়ে বেশি স্বস্তি পেয়েছেন তিনি। এএফসি কাপে গত দুটি ম্যাচে হার ও ক্রমশ চোট-আঘাতের সংখ্যা বাড়ার ফলে ফুটবলারদের মানসিক অবস্থা যে ভাল জায়গায় ছিল না, তা তিনি শনিবার হায়দরাবাদ এফসি-কে হারানোর পরে সাংবাদিক বৈঠকে স্বীকার করে নেন। এই অবস্থা থেকেও তিন পয়েন্ট অর্জন করার ফলে বেশ খুশি সবুজ-মেরুন কোচ।

শনিবার রাতে ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আজ কঠিন ম্যাচ ছিল আমাদের। কারণ, হায়দরাবাদ গত তিনটি ম্যাচে ক্রমশ অনেক উন্নতি করেছে। ওরা কঠিন প্রতিপক্ষ। আমাদের আজ জায়গা তৈরি করা কঠিন হয়ে ওঠে। তা ছাড়া আমাদের ছেলেরা মানসিক ভাবেও চাপে ছিল। হায়দরাবাদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কারণ, ওদের এটা হোম ম্যাচ ছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শেষে আমরা জায়গা তৈরি করতে পেরেছি, ভাল খেলেছি, জিতেছি। সেজন্য আমি খুশি”।

শনিবার হায়দরাবাদ এফসি-কে তারা ২-০-য় হারায় সবুজ-মেরুন বাহিনী। ম্যাচের শেষ ১১ মিনিটের মধ্যে দু’টি গোল করে দলকে পঞ্চম জয় এনে দেন যথাক্রমে ব্রেন্ডান হ্যামিল ও আশিস রাই। এই নিয়ে তারা টানা পাঁচ ম্যাচে জিতে চলতি লিগ শুরু করল। আইএসএলের ইতিহাসে এত ভাল শুরু এর আগে শুধু মোহনবাগান নয়, আর কোনও দলই করেনি। এর আগে ২০১৮-১৯ মরশুমে প্রথম পাঁচ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট অর্জন করেছিল বেঙ্গালুরু এফসি। এত দিন এটাই ছিল আইএসএলের সবচেয়ে ভাল সূচনা (প্রথম পাঁচ ম্যাচে)। এ বার সেই নজির গড়ল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট।

এএফসি কাপের ব্যর্থতার পর যে এই ম্যাচে ফোকাস বজায় রাখতে পেরেছেন তাঁর ফুটবলাররা, তার প্রশংসা করেন কোচ। বলেন, “আমার কাছে দলের খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত সোমবার একটা হতাশাজনক হারের পর শনিবার একটা কঠিন পরিস্থিতিতে ম্যাচ জেতা সোজা কাজ নয়। প্রথমার্ধে আমরা ভাল খেলতে পারিনি, স্বীকার করতেই হবে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আমরা অনেক ভাল খেলেছি। এএফসি কাপে গত ম্যাচের আগেই আমরা বসুন্ধরার ম্যাচের ফল জানতে পেরেছিলাম বলে ফোকাসটা নড়ে গিয়েছিল। এই ম্যাচে সেটা হয়নি। আমরা বরাবরই এই ম্যাচে ফোকাস বজায় রেখেছি”।

টানা পাঁচ ম্যাচে জয় দিয়ে লিগ শুরু প্রসঙ্গে স্প্যানিশ কোচ বলেন, “আমরা পাঁচ ম্যাচ জিতেছি, যেটা সোজা নয়। কারণ, খেলোয়াড়রা ভাল খেলছে। আমি খুশি যে ছেলেদের জয়ের খিদেটা রয়েছে, তারা জেতার মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামছে। এই ভাবেই এগিয়ে যেতে হবে আমাদের। আশা করি আমরা পারব”।    

 অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপার জেসন কামিংসের পারফরম্যান্সে সমর্থকেরা হতাশ। কারণ, তিনি গোল করতে পারছেন না। এ দিনও ৬৪ মিনিট মাঠে থাকলেও কোনও গোল বা অ্যাসিস্ট কিছুই করতে পারেননি কামিংস। কিন্তু কোচ ফেরান্দো তাঁর খেলায় অখুশি নন। বলেন, “জেসন তো ভালই খেলছে। ও আক্রমণে জায়গা তৈরি করছে, সুযোগ তৈরি করছে। গত ম্যাচে কামিংস ৯০ মিনিট খেলেছে। এই ম্যাচে ৬৪ মিনিট খেলেছে। মোটেই খারাপ খেলছে না। একজন খেলোয়াড় ক্লান্ত হতেই পারে। বিশেষ করে বারবার যদি টানা অনেকদিন খেলা বন্ধ থাকে। এই মাসে টানা ম্যাচ থাকলেও পরের মাসে এশিয়ান কাপের জন্য আবার অবকাশ থাকবে। যদিও সেই সময়ে সুপার কাপ হবে”।

কে গোল করছে, এই নিয়ে বেশি ভাবতে রাজি নন স্প্যানিশ কোচ। গোল হওয়াটাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।  সে কথা স্পষ্ট জানিয়ে ফেরান্দো বলেন, “আমরা জায়গা তৈরি করছি। পজিশনাল অ্যাটাকে যাচ্ছি। শেষ পর্যন্ত গোল হচ্ছে, এটাই বড় কথা। কে গোল করছে সেটা বড় কথা নয়। একদিন কিয়ান গোল করছে, অন্যদিন ব্রেন্ডান গোল করছে, কোনও দিন সহাল গোল করবে, এটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হল জায়গা তৈরি করা। আজ সহাল ও আরমান্দো ভাল জায়গা তৈরি করেছে, যার ফল পেয়েছে ব্রেন্ডান। জানি ও আমাদের সেন্টার ব্যাক। তবে ও ভাল ফিনিশারও। ও দলকে চাঙ্গা রাখতে চেষ্টা করে”।

দলের আক্রমণের দুই স্তম্ভ দিমিত্রিয়স পেট্রাটস ও মনবীর সিং এ দিন স্কোয়াডেই ছিলেন না। জানা গিয়েছে, তাঁরা দলের সঙ্গে ভুবনেশ্বরে যাননি। তাঁদের চোটের অবস্থা জানতে চাইলে ফেরান্দো বলেন, “পেশীতে চোট থাকলে আগাম কিছু বলা যায় না। দিমিত্রি ও মনবীরদের আমাদের মেডিক্যাল স্টাফ দেখছে। ওরা চেষ্টা করছে। কিন্তু এখনই কিছু বলা কঠিন। দিমির চোট প্রায় এক মাস হয়ে গিয়েছে। মনবীর জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গিয়ে চোট নিয়ে ফিরেছে। ওর চোটটা অতটা গুরুতর নয় ঠিকই। তবে সময় তো দিতেই হবে। এই অবস্থায় তাড়াহুড়ো না করাই ভাল। আনোয়ার, আশিকের খুব তাড়াতাড়ি মাঠে ফেরা কঠিন”।