আক্রমণাত্মক ভূমিকায় খেলেই নিজের সেরাটা দিতে পেরেছি: জনি কাউকো

গত বছর এই এএফসি কাপেই সবুজ-মেরুন জার্সিতে অভিষেক তাঁর। কিন্তু সেই অভিষেক বোধহয় মনে রাখতে চান না ফিনল্যান্ডের জাতীয় দলের ফুটবলার জনি কাউকো। কারণ, সেপ্টেম্বরে উজবেকিস্তানের কার্শি শহরের মার্কাজি স্টেডিয়ামে এএফসি কাপের ইন্টার জোনাল সেমিফাইনালের সেই ম্যাচে প্রথমার্ধেই ০-৬-এ হারে তারা।

পরে অবশ্য ক্রমশ দলের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেন কাউকো এবং হিরো আইএসএলে নিজেকে আসল জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। ক্রমশ নিজের আসল জায়গায় খেলে যে নিজেকে সেরা জায়গায় নিয়ে এসেছেন, সে কথা জানিয়ে মঙ্গলবার রাতে মলদ্বীপের মাজিয়া এসআর-এর বিরুদ্ধে জোড়া গোলের নায়ক কাউকো বলেন, “এটাই আমার জায়গা এবং চার বছর ধরে এখানেই খেলে আসছি। প্রথম দশটি ম্যাচে আমি কিছুটা রক্ষণাত্মক ভূমিকায় ছিলাম। সেটাই আমার কাছে নতুন ছিল। দলকে সাহায্য করার জন্য আমি সব সময় নিজের সেরাটা দিতে চাই। কিন্তু একটু উঠে খেললেই নিজের সেরাটা দিতে পারি আমি”।   

গত হিরো আইএসএলে ২০টি ম্যাচ খেলে যেমন তিনটি গোল করেন, তেমনই ছ’টি গোলে প্রত্যক্ষ মদতও দেন। এ বারের এএফসি কাপের প্রাথমিক পর্বের প্রথম প্লে অফ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ব্লু স্টারের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করেন তিনি। পরের ম্যাচে ঢাকা আবাহনীর বিরুদ্ধে ও সম্প্রতি বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে গোল না পেলেও গোলের সুযোগ তৈরিতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করেন তিনি।  

মঙ্গলবার মলদ্বীপের মাজিয়াকে ৫-২-এ হারিয়ে টুর্নামেন্টের ইন্টার জোনাল সেমিফাইনালে উঠে পড়ে কলকাতার দল। প্রথম ম্যাচে গোকুলম কেরালা এফসি-র কাছে ২-৪-এ হারার তিন দিন পরেই বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসকে ৪-০-য় হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে নেমে মঙ্গলবারের ম্যাচে দাপুটে জয় পান কাউকোরা।

গ্রুপ পর্বে দলের পারফরম্যান্সে খুশি কাউকো বলেন, “আমরা খুব ভাল খেলেছি। ম্যাচে আমাদের আধিপত্যই ছিল অধিকাংশ সময়ে। পুরো গ্রুপ পর্বটাই দারুন কেটেছে আমাদের। একটাই ম্যাচ হেরেছি। তাই আমি খুশি এবং সতীর্থদের জন্য গর্বিত”।

ভারতীয় ক্লাবে সই করার পরে জীবনের প্রথম ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে কাউকো বলেন, “নসফ এফসি-র বিরুদ্ধে তাঁর প্রথম ম্যাচটাই আমি খেলেছিলাম নসফের বিরুদ্ধে, যে ম্যাচে আমরা ছ’গোলে হেরে যাই। খুব হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। তার পরে আরও অনেক গুলো ভাল ম্যাচ খেলেছিলাম। তবে আমার মনে হত, নীচে নেমে খেললে নিজের সেরাটা দিতে পারছি না। যত উঠে খেলতে শুরু করি, তত স্বাচ্ছন্দবোধ করি। এখন পর্যন্ত এটিকে মোহনবাগানের হয়ে খেলাটা আমার কাছে খুব ভাল অভিজ্ঞতা। সময়টা উপভোগ করছি। এরকম ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতার জন্যই এখানে এসেছি আমি। অপেক্ষায় থাকব, পরের ম্যাচের জন্য”।

Your Comments

Your Comments