চেন্নাইন এফসি-র সঙ্গে এফসি গোয়ার ধুন্ধুমার ফুটবল-যুদ্ধে গোলবৃষ্টির পূর্বাভাস

হিরো আইএসএল ২০১৯-২০-র প্রথম সেমিফাইনালে গতবারের ফাইনালিস্ট এফসি গোয়া এমন একটা দলের বিরুদ্ধে মাঠে নামছে, যাদের তারা এড়িয়ে যেতে চেয়েছিল। সেটা চেন্নাইন এফসি। দলের অন্তর্বর্তী কোচ ক্লিফোর্ড মিরান্ডা সত্যি সত্যি কথা বলে থাকলে এটাই কিন্তু ঘটনা। চলতি আইএসএলের লিগ তালিকায় এক নম্বরে থাকা দলটা নাকি সত্যিই সেমিফাইনালে এড়াতে চেয়েছিল চেন্নাইন এফসি-কে। তাই আওয়েন কোইলের দল যদি শনিবার সেমিফাইনাল পর্বের শুরুতেই অঘটন ঘটিয়ে ফেলেন, তা হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

মিরান্ডা শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, “এই লিগে চেন্নাইন এফসি সবচেয়ে কঠিন প্রতিদ্বন্দী। তাই ওদের এড়াতেই চেয়েছিলাম আমরা। ওরা একটা সময়ে লিগ টেবলের সবচেয়ে নীচে ছিল। কিন্তু নতুন হেড কোচ কোইলের তত্ত্বাবধানে ১২টা ম্যাচের মধ্যেই ২৪ পয়েন্ট তুলে নিজেদের ওই জায়গা থেকে সেরা চারে নিয়ে চলে এসেছে। এত উন্নতি আর কোনও দল করেছে বলে তো মনে হয় না। শেষ আট ম্যাচে ২১টা গোল করে অপরাজিত রয়েছে ওরা। ওরা খুবই বিপজ্জনক। নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে হবে আমাদের। কিন্তু খুব সাবধানও থাকতে হবে”।

এফসি গোয়ার কোচের এই কথাগুলোর মধ্যে যেমন চেন্নাইয়ের দলের কৃতিত্ব লুকিয়ে আছে, তেমনই লিগসেরারা সেমিফাইনাল পর্ব নিয়ে যে কতটা চিন্তিত, সেটাও বোঝা যাচ্ছে। গত চার বারের মুখোমুখিতে প্রতিবারই চেন্নাইনকে হারিয়েছে এফসি গোয়া। তবে এ বার তারা ইতিহাস পাল্টানোর স্বপ্ন দেখছে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে। টানা আট ম্যাচে ২১ পয়েন্ট অর্জন করেছে যারা, তাদের সেই ছন্দই সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে নক-আউট পর্বে।

শেষ চারবারে মুখোমুখির পরিসংখ্যান গোয়ার পক্ষে থাকলেও দুই দলের নক-আউট যুদ্ধে কিন্তু এগিয়ে চেন্নাইয়ের দলই। তিনবারের মধ্যে দু’বারই জিতেছে তারা। তার মধ্যে ২০১৫-র ফাইনালও রয়েছে। অপর ম্যাচটি ড্র হয়। আর মোট ১৫ বারের মুখোমুখিতে গোয়া জিতেছে আটবার, চেন্নাইন ছ’বার এবং দু’বার ড্র হয়।

ডিসেম্বরে কোইলের কোচ হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে চেন্নাইনের অবস্থা ছিল শোচনীয়। প্রথম ছ’টি ম্যাচের মাত্র একটিতে জয় পায় তারা। এর মধ্যে চারটি ম্যাচে গোলই করতে পারেনি। আইরিশ কোচ কোইলের ম্যান ম্যানেজমেন্ট ও কৌশল তৈরির দক্ষতাই চেন্নাইনের ডুবন্ত জাহাজের হাল ধরে এবং পরের ১২টি ম্যাচে ২১ পয়েন্ট পেয়ে এখন তারা ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে। সবচেয়ে বড় কথা তাদের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ এফসি গোয়া তাদের নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছে।

অন্য দিকে লিগের সেরা হয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা করে নেওয়া গোয়ার দলের কাছে খেতাব জেতাটা এখন বাড়তি চাপ। না হলে লিগসেরা হওয়ার কৃতিত্বের প্রতি সুবিচার হবে কী করে? ১৮ ম্যাচে ৪৬টি গোল করেছে তারা। হিরো আইএসএলের এক মরশুমে এটাই কোনও দলের সবচেয়ে বেশি গোল। এই পরিসংখ্যানেই বোঝা যাচ্ছে কতটা শক্তিশালী তাদের আক্রমণ বিভাগ। ফেরান কোরোমিনাস, হুগো বুমুসরা মাঠে নামলেই গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন। কোরোমিনাস না হয় গত দুই মরশুমেই সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে আসছেন। কিন্তু বুমুসের মতো কার্যকরী মিডফিল্ডার অন্য কোনও দলে নেই। মাঝমাঠের খেলোয়াড় হয়েও ১১টি গোল করেছেন তিনি ১৪টি ম্যাচে।   

এফসি গোয়ার মতোই দুর্ধর্ষ চেন্নাইনের অ্যাটাকও। মুর্তাদা ফল-রা তাই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। লিথুয়ানিয়ান স্ট্রাইকার নেরিজাস ভাল্সকিস ও ইতালিয়ান মিডফিল্ডার রাফায়েল ক্রিভেলারো দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন। এঁদের সঙ্গে আন্দ্রে শেম্বরি ও লালিয়ানজুয়ালা ছাংতেও বিপক্ষের ডিফেন্ডারদের কাছে ত্রাস হয়ে উঠছেন।

এই অবস্থায় কেউই যে কাউকে ছাড়বে না, তেমনই আশা করা যায়। অ্যাওয়ে গোলের নিয়মের জন্যও গোয়া শনিবার যথাসম্ভব গোল করার চেষ্টায থাকবে। কারণ, এটা তাদের অ্যাওয়ে লেগ। দুই লেগের গোলসংখ্যা যদি সমান হয়ে যায়, তা হলে অ্যাওয়ে গোলের ভিত্তিতেই ফাইনালিস্ট নির্বাচিত হবে। তাই বাইরের ম্যাচে গোল করাটা খুবই জরুরি। তবে দুই দলের গোল দেওয়ার মরিয়া চেষ্টায় যে উপভোগ্য ফুটবলের জন্ম দিতে পারে, এই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

সরাসরি সম্প্রচার: হিরো আইএসএল সেমিফাইনাল ১ (প্রথম লেগ) - চেন্নাইন এফসি বনাম এফসি গোয়া - ২৯ ফেব্রুয়ারি, শনিবার, সন্ধ্যা ৭.৩০ থেকে স্টার স্পোর্টস নেটওয়ার্ক, হটস্টার ও জিও টিভিতে।   

Your Comments

Your Comments