এক মাস পরেই কলকাতা ডার্বি, দুই চিরপ্রতিদ্বন্দী ক্লাবের প্রস্তুতি তুঙ্গে

আর সপ্তাহ তিনেক বাকি এ বারের হিরো আইএসএল শুরু হতে। ক্লাবগুলির প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে। অনেকে গোয়ায় পৌঁছে গিয়ে জৈব সুরক্ষা বলয়ে ঢুকে পড়েছে। আবার অনেকে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলাও শুরু করে দিয়েছে। ঠিক এক মাস পরেই কলকাতা ডার্বি। আগামী মাসে এই দিনেই হবে ফুটবলের সেই মহারণ। তাই কলকাতার দুই দলের প্রস্তুতি তুঙ্গে। 

পিছিয়ে নেই কলকাতার ক্লাব এসসি ইস্টবেঙ্গল। গতবার হিরো আইএসএলে তাদের অভিষেক হলেও খুব একটা ভাল পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি তারা। লিগ তালিকায় এগারো দলের মধ্যে ন’নম্বরে থেকে লিগ শেষ করে তারা। মূলত যথেষ্ট প্রস্তুতির অভাবকেই এই পারফরম্যান্সের কারণ হিসেবে দেখেন ক্লাবের কোচ, কর্তারা। তাই এ বার অনেক আগে থাকতেই গোয়ায় প্রস্তুতি শিবির শুরু করে দিয়েছে তারা। তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলা হয়ে গিয়েছে তাদের।

এক দিকে, এসসি ইস্টবেঙ্গল যখন জোর কদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে, তখন অন্য দিকে, গত বারের রানার্স আপ এটিকে মোহনবাগান একটু দেরিতে তাদের শিবির শুরু করে। অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে গোয়ায় প্রস্তুতি শিবির শুরু করেছে তারা। তবে প্রস্তুতি ম্যাচ নিয়ে তাদের বিশেষ আগ্রহ নেই।

কলকাতার দুই দলেরই কোচ এ বার স্প্যানিশ। স্পেন থেকে আসা কোচেদের রমরমা দেখে লাল-হলুদ শিবির এ বার হোসে মানুয়েল দিয়াজকে কোচ করে নিয়ে এসেছে। আর সবুজ-মেরুন শিবিরের আইএসএল অভিযানের শুরু থেকেই তো তাদের দায়িত্বে রয়েছেন আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। স্বদেশীয় হলেও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার ব্যাপারে দুই কোচ দুই মেরুতে। দিয়াজ যখন লিগ শুরুর আগে হাফ ডজন প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তখন হাবাস ঠিক করেছেন, অন্য দলের বিরুদ্ধে কোনও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে না তাঁর।

অক্টোবরের ৭ তারিখ থেকে প্রস্তুতি শুরু করেছেন লাল-হলুদ শিবিরের কোচ-ফুটবলাররা। হিরো আইএসএলে তাদের প্রথম ম্যাচ ২১ নভেম্বর। অর্থাৎ প্রায় দোড় মাস সময় নিয়ে প্রস্তুতি সারছে তারা। সম্পুর্ণ নতুন কম্বিনেশন তৈরির করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে দলের দায়িত্ব নিয়েছেন স্প্যানিশ কোচ দিয়াজ। এই সময়টা তাদের প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট কি না, তা তো লিগ শুরু হলে বোঝা যাবে।

তাদের সামনে আবার লিগের শুরুর দিকেই বড় পরীক্ষা। ঠিক এক মাস পরেই কলকাতা ডার্বি। দ্বিতীয় ম্যাচেই তারা মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দী এটিকে মোহনবাগানের। গতবারও দু’বার চিরপ্রতিদ্বন্দীদের মুখোমুখি হয়ে কোনওবারই জিততে পারেনি। তাই এ বার ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ তাদের সামনে। তারই প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে।

এ পর্যন্ত তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা হয়ে গিয়েছে তাদের। তিনটি ম্যাচেই জিতেছে তারা। এর চেয়ে ভাল শুরু আর কী হতে পারে? ভাস্কো এসসি-র বিরুদ্ধে ৩-১ জয় দিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ শুরু করে তারা। সেম্বয় হাওকিপ, শুভ ঘোষ অ্যাকাডেমির খেলোয়াড় সিদ্ধান্ত শিরোদকারওয়েরে তিনটি গোল করেন। প্রাক্তন আই লিগ চ্যাম্পিয়ন সালগাওকরের বিরুদ্ধে তারা ২-০ জয় দিয়ে শুরু করে। স্লোভেনিয়ান মিডফিল্ডার আমির দার্ভিসেভিচ ও বাংলার মিডফিল্ডার সৌরভ দাস গোল করেন। গত বুধবার পানাজিতে হিরো আই লিগ চ্যাম্পিয়ন গোকুলাম এফসি-র বিরুদ্ধেও ২-১ জেতে তারা। বলওয়ন্ত সিং ও ওয়াহেংবাম আঙ্গুসানা দলের হয়ে গোল করেন। 

আগামী মাসে আরও তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে এসসি ইস্টবেঙ্গল এবং তিনটিই কঠিন প্রতিদ্বন্দীর বিরুদ্ধে, যাদের বিরুদ্ধে হিরো আইএসএলেও খেলতে হবে তাদের। ৪ ও ৫ নভেম্বর পরপর দু’টি ম্যাচ তাদের খেলার কথা এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে। ১৪ নভেম্বর তাদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচটি খেলার কথা গতবারের চ্যাম্পিয়ন ও লিগজয়ী মুম্বই সিটি এফসি-র বিরুদ্ধে। আশা করা যায়, এ বার বেশ ভাল রকম তৈরি হয়েই নামছে গঙ্গাপাড়ের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব এবং এটিকে মোহনবাগানকে হয়তো কড়া চ্যালেঞ্জ জানাবে তারা।

আন্তোনিও লোপেজ হাবাস অবশ্য আরও বড় মঞ্চে তাঁর দলের খেলোয়াড়দের পরখ করে নিয়েছেন। তাই আর আলাদা করে প্রস্তুতি ম্যাচে খেলার প্রয়োজন অনুভব করছেন না। সেপ্টেম্বরে তারা এএফসি কাপ ইন্টার জোনাল সেমিফাইনালে খেলে। সেই ম্যাচে তারা উজবেকিস্তানের এফসি নসফের কাছে ছ’গোলে হেরে বড় শিক্ষা নিয়েছে। যে শিক্ষা হিরো আইএসএলে অবশ্যই কাজে লাগবে।

তার আগে অগস্টে এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বে বেঙ্গালুরু এফসি-কে ২-০ গোলে, মলদ্বীপের মাজিয়া এসআরসি-কে ৩-১-এ হারায় এবং বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই চারটি ম্যাচেই নিজের দলকে পরখ করে নিয়েছেন হাবাস। এখন ওই ম্যাচগুলোর ভিত্তিতেই দলের শক্তি-দুর্বলতা নিয়ে কাজ করছেন তিনি ও তাঁর সহকারী কোচেরা।

গত বৃহস্পতিবার থেকে অনুশীলন শুরু করেছে এটিকে মোহনবাগান। শুরু থেকেই যে সবাইকে পেয়েছেন, তা নয়। প্রীতম কোটাল, মনবীর সিং, শুভাশিস বসু, লিস্টন কোলাসোরা সাফ কাপ জয়ী ভারতীয় দলে ছিলেন। তাঁরা সেখান থেকে ফিরে এটিকে মোহনবাগান শিবিরে যোগ দিয়েছেন। সুমিত রাঠি ও দীপক টাঙরি অনূর্ধ্ব ২৩ ভারতীয় দলে রয়েছেন। তাই তাঁরা এই শিবিরে নেই। বিদেশিরা চলে এলেও হুগো বুমৌস ব্যক্তিগত কারণে ভারতে আসতে পারেননি। তবে দু-এক দিনের মধ্যেই প্রস্তুতি শিবিরে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ পুরো দল নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করতে হাবাসের দলের আরও কয়েক দিন হয়তো লাগবে।

Your Comments