হাবাসের জন্যই এটিকে মোহনবাগানকে নিয়ে আশাবাদী সৌরভ, লিগে দলের সংখ্যা বাড়ায় খুশি

এটিকে মোহনবাগানের হিরো আইএসএলে খেলা নিয়ে তিনি যতটা খুশি, তেমনই আশাবাদী প্রথম মরশুমেই তাদের সাফল্য নিয়ে। ভারতীয় ক্রিকেটের প্রাক্তন অধিনায়ক ও এটিকে মোহনবাগানের অন্যতম মালিক সৌরভ গাঙ্গুলির ধারণা, কোচ হাবাসই এ বার সাফল্য এনে দিতে পারে তাঁদের দলকে।

“এ বছরই প্রথম হিরো আইএসএলে খেলছে এটিকে মোহনবাগান। আশা করি, এই মরশুমটা ভালই যাবে আমাদের। আমাদের কোচ আমার খুব প্রিয়। আইএসএল জেতার মতো প্যাশন ও কলিজা ওঁর মধ্যে আছে। দু’বার তো জিতেওছে”, বৃহস্পতিবার হিরো আইএসএলের ‘লেটস ফুটবল লাইভ’ শোয়ে এই কথাগুলি বলেন সৌরভ। শুক্রবারই এ বছরের লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে এটিকে মোহনবাগান মুখোমুখি হতে চলেছে কেরালা ব্লাস্টার্সের। তার আগে সৌরভের বলা কথাগুলো কলকাতার দলের ফুটবলারদের উৎসাহ জোগানোর জন্য যথেষ্ট।

 আগামী সপ্তাহেই আবার হিরো আইএসএলে প্রথম কলকাতা ডার্বি ভাস্কোর তিলক ময়দান স্টেডিয়ামে। এই ম্যাচেরও অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানালেন সৌরভ। বলেন, “ভাল দল থাকলে একটা লিগ সফল হতে বাধ্য। আমার মনে হয়, কলকাতার এই দুই দল হিরো আইএসএল-কে আরও সফল করে তুলবে। ওদের যা ইতিহাস, যা ঐতিহ্য, অসাধারণ। আমি ২৭ তারিখের ম্যাচের অপেক্ষায় আছি। ওই দিনই তো হিরো আইএসএলে প্রথম কলকাতা ডার্বি”।

শুরু থেকেই হিরো আইএসএলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন সৌরভ। তাই গত ছ’বছর ধরে এই লিগের বেড়ে ওঠার ওপর নজর রয়েছে তাঁর। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গত কয়েক বছরে হিরো আইএসএলের মান অনেক বেড়েছে। আর লিগে প্রতিযোগিতা যত বাড়বে, ততই লিগ সফল হবে। এখন অনেক ভাল ভাল বিদেশি ফুটবলারও আসছে। কয়েকজন গ্রেট প্লেয়ারও এসেছে এই লিগে”।

এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রয় কৃষ্ণার উদাহরণ দিয়ে সৌরভ বলেন, “গত মরশুমে আমরা রয় কৃষ্ণাকে দেখেছি। ও তো অসাধারণ। ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে ও কতটা ভাল আর ভারতীয় খেলোয়াড়দের চেয়ে কতটা আলাদা, সে ওর খেলা দেখলেই বোঝা যায়। ওর সঙ্গে খেলে আমাদের দেশীয় ফুটবলাররাও উন্নতি করেছে। যত সময় যাবে, তত লিগে আরও উন্নতি হবে। ভারত অনেক বড় একটা দেশ। আগামী কয়েক বছরে বিদেশ থেকে আরও ভাল ভাল খেলোয়াড় আসবে আইএসএলে। ভারতীয় ফুটবলের পক্ষে এটা দারুণ খবর”।

এ বারের আইএসএলে যেমন দলের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১, তেমনই ম্যাচের সংখ্যাও বেড় হতে চলেছে ১১৫টি। লিগের আয়তন আরও বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে সৌরভের প্রতিক্রিয়া, “আস্তে আস্তে আরও বড় হবে লিগ। আগামী দশ বছরে আরও অনেক বড় হবে আইএসএল। শুরুটা করেছিলাম আটটা দল নিয়ে। সেখান থেকে বেড়ে হয়েছে ১১। ভবিষ্যতে আরও অনেকে দল নিয়ে আসবে। একমাত্র এই উপায়েই ভারতীয় ফুটবল এগিয়ে যেতে পারে”।

করোনা আবহে জৈব সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে এ বারের হিরো আইএসএল হচ্ছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট সবার সুরক্ষাই সুনিশ্চিত করার ব্যবস্থা হয়েছে। এই নিয়ে সৌরভের মন্তব্য, “এই সময়ে জৈব সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে থাকা খুবই জরুরি। এটা এমন কিছু কঠিন বলেও মনে হয় না আমার। হোটেলগুলো নিশ্চয়ই সমুদ্রের ধারে। তাই তাজা হাওয়া পাবে (লিগে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা) সবাই। তাই কারও একার জন্য নয়, পুরো লিগের জন্যই এই বলয়ের মধ্যে থাকাটা খুব জরুরি। তবে সবচেয়ে আনন্দের কথা, ফুটবলাররা আবার তাদের প্রিয় খেলাটা খেলার সুযোগ ফের পাচ্ছে। এর চেয়ে ভাল যআর কী হতে পারে?”

Your Comments

Your Comments