মরশুমের শুরুটা ভাল হলেও ইন্ডিয়ান সুপার লিগে টানা চার ম্যাচে জয়হীন ইস্টবেঙ্গল এফসি। তা সত্ত্বেও বিচলিত নন তাদের স্প্যানিশ কোচ কার্লস কুয়াদ্রাত। তাঁর মতে, দলের এই সময়ে যেমন খেলা উচিত তেমনই খেলছে। কিন্তু প্রতি ম্যাচে ছোট ছোট ভুলই তাদের সাফল্যের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

শনিবার চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত এক গোলে এগিয়ে থাকার পরও গোল খেয়ে জেতা ম্যাচ ১-১ ড্র করে ইস্টবেঙ্গল এফসি। এই মরশুমে এই নিয়ে তিনটি ম্যাচে এগিয়ে থেকেও জয় হাতছাড়া করলেন ক্লেটন সিলভারা। ম্যাচের বয়স ৮০ মিনিট পেরিয়ে যাওয়ার পর এই নিয়ে দ্বিতীয় গোল খায় তারা। গত ম্যাচেও যে ভাবে কেরালার ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে ৮৮ মিনিটের মাথায় গোল খেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল, শনিবার চেন্নাইন এফসি-র বিরুদ্ধেও ৮৬ মিনিটের মাথায় গোল খেয়ে জয়ে ফেরার সুযোগ হাতছাড়া করে।

এই ড্রয়ের পর সাংবাদিক বৈঠকে এসে ইস্টবেঙ্গল কোচ কার্লস কুয়াদ্রাত বলেন, “দলের ছেলেদের শারীরিক ভাবে কোনও সমস্যা ছিল না। যথেষ্ট বিশ্রাম তারা পেয়েছে। এ রকম কোনও অজুহাত দিতে রাজি নই আমি। তবে আজকের ম্যাচে চেন্নাইন আমাদের চেয়ে ভাল খেলেছে, এ কথাও ঠিক নয়। আমরা গত কয়েকদিন ধরে যে ভুলগুলো শোধরানোর কাজ করেছি, আজকের ম্যাচে তার বেশিরভাগটুকুই প্রতিফলিত হয়েছে। যে পরিস্থিতিগুলোতে আমরা প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারি, সেই পরিস্থিতিগুলোকে আমরা কাজে লাগিয়েছি। কিন্তু ম্যাচের শেষ দিকে যা করার দরকার ছিল, তা আমরা করতে পারিনি”।  

তবে দলের বিদেশি ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে যে তিনি খুশি নন, তাও স্পষ্ট জানিয়ে দেন কুয়াদ্রাত। বলেন, “আমাদের দলের বিদেশি ফুটবলারদের আরও ভাল খেলতে হবে। আজ একজন বিদেশির ভুলেই আমাদের গোল খেতে হয়েছে। গত ম্যাচেও বিদেশিদের ভুল হয়েছে। পেনাল্টিও মিস করেছে একজন বিদেশিই। ৮৫ মিনিটের মাথায় যদি পেনাল্টি মিস হয়, তা হলে কিছু করার থাকে না। আমি আমার বিদেশি খেলোয়াড়দের নিন্দা করছি না। শুধু বলছি ওদের আরও ভাল খেলতে হবে। ওরা দলের শক্তি। ওদের সে রকমই পারফরম্যান্স দেখাতে হবে। দল হিসেবে আমাদের এই ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে”।

ম্যাচের ২৯ মিনিটের মাথায় চেন্নাইনের মিডিও আয়ূষ অধিকারীর নিজগোলে এগিয়ে যায় কলকাতার দল। এই নিয়ে আইএসএলে এটি চেন্নাইনের সাত নম্বর নিজগোল ও আয়ূষের প্রথম। সেই গোলেই ৮৫ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল। সারা ম্যাচে এদিন যথেষ্ট গোছানো ও তৎপর থাকার পরে শেষ ১২ মিনিটে (বাড়তি সময়-সহ) চাপের মুখে ভেঙে পড়ে লাল-হলুদ রক্ষণ এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই সমতা আনে চেন্নাইন এফসি-র নিনথই মিতেই। আইএসএলে এটি তাঁর দ্বিতীয় গোল। ঘটনাচক্রে প্রথম গোলটিও ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধেই। এই ড্রয়ে লাল-হলুদ বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের অপরাজিত থাকার নজির অক্ষুণ্ণ রাখল চেন্নাইন এফসি।

এ দিনের ম্যাচে যে তাঁদেরই দাপট ছিল বেশি, সে রকমই দাবি করে ইস্টবেঙ্গল কোচ বলেন, “আজ বল পজেশনে ওরা এগিয়ে থাকলেও আমরা কিন্তু ম্যাচটা নিয়ন্ত্রণ করেছি। আমরা এখন পর্যন্ত পাঁচ পয়েন্ট অর্জন করলেও আমাদের আরও বেশি পাওয়ার কথা ছিল। আমার মনে হয় পরিবর্তন আসবে। গত বছরেও শুরুর দিকে অনেক নেতিবাচক ঘটনা ঘটেছিল। তার পরে ক্রমশ দল ভাল খেলা শুরু করেছিল। এ বারও আমি ইতিবাচক মনোভাব নিয়েই থাকতে চাই। সে জন্যই প্রথম এগারোয় ২১ বছর বয়সী বিষ্ণুকে রেখেছি। প্রথম গোলটা ওরই তৈরি করা। যারা অনুশীলনে ভাল করে, তাদের আমি সুযোগ দিতে চাই। আমাদের দলে ভাল ভাল আক্রমণাত্মক ফুটবলার আছে, সেই সুবিধাটা আমরা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু একটা ভুলই আমাদের ম্যাচটা জিততে দিল না”।

নিজেদের ভুল স্বীকার করে নিয়ে অতীতে আইএসএল জয়ী কোচ বলেন, “বাস্তবটা তো মেনে নিতেই হবে এবং এগুলো থেকেই আমাদের শিখতে হবে। শেষদিকে যে ভুল করেছি আমরা, সেটাই ওরা কাজে লাগিয়েছে। ওটা আমাদেরই ভুল ছিল। এই ক’দিনে অনেক পরিশ্রম করেছি আমরা। অনেক আলোচনা করেছি, ভিডিও বিশ্লেষণ করেছি। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তার কিছুটা খামতি থেকে গিয়েছে”।

দল পরিকল্পনামাফিকই খেলছে বলে মনে করেন কুয়াদ্রাত। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা কিন্তু  পরিকল্পনামাফিকই খেলেছি। ২-০- করার জায়গাতেও চলে এসেছিলাম। তবে চেন্নাইন যেটা করেছে, সেটাই স্বাভাবিক। এক গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় শেষ দিকে ওদের আক্রমণাত্মক খেলাটাই স্বাভাবিক। সব মিলিয়ে আমি খুশি। যে পরিকল্পনা নিয়ে নেমেছিলাম, তাতে সফলই হচ্ছি। আমরা নিয়ম মেনেই আক্রমণে উঠছি। রক্ষণও মোটেই খারাপ হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত দলের খেলায়, পরিশ্রমে, পরিকল্পনা রূপায়নের দিক থেকে আমি খুশি। তবে আমাদের আরও পরিণত হতে হবে। আমার দলের ছেলেদের ওপর আস্থা রয়েছে। আমার বিশ্বাস ওরা পারবে। আমরাও সাফল্যে ফিরে আসব”।